দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিউজিল্যান্ডের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা চীনকে দেশটির জন্য সবচেয়ে ধারাবাহিক ও সক্ষম রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত সাইবার হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দেশটির গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের অংশ ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (এনসিএসসি) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বার্ষিক সাইবার থ্রেট রিপোর্টে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতের প্রতিষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সাইবার তৎপরতা শনাক্ত হয়েছে। এসব তৎপরতার মাধ্যমে সংবেদনশীল নিউজিল্যান্ডীয় তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে এনসিএসসি।
চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন রাষ্ট্রীয় সাইবার কার্যক্রম শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে এসব দেশের মধ্যে চীনই নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে ধারাবাহিক ও সক্ষম রাষ্ট্রীয় সাইবার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের এ মূল্যায়নের প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র নিউজিল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ‘মিথ্যা ছড়ানো ও সংঘাত সৃষ্টি’ বন্ধ করে দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থা বৃদ্ধিতে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চীন সব ধরনের হ্যাকিং হামলার বিরোধিতা করে এবং আইন অনুযায়ী এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
এর আগে আগস্টে নিউজিল্যান্ডের নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছিল, চীনই একমাত্র দেশ যার ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ড ‘বড় পরিসরে’ পরিচালিত গুপ্তচরবৃত্তির কার্যক্রম শনাক্ত করেছে।
এনসিএসসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া এক বছরে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত ৩৬৯টি সম্ভাব্য সাইবার ঘটনার মধ্যে ৮৬টির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ রয়েছে। এসব ঘটনার লক্ষ্য ছিল সরকারি সংস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই সাইবার পরিসরেও বিস্তৃত হচ্ছে। এ অঞ্চলের সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিএসসি।
নিউজিল্যান্ডের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ ধরনের সাইবার তৎপরতা দেশটির নাগরিক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন নাগরিক প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
এনসিএসসি জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত সাইবার হামলাকারীরা এমন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করতে পারে, যারা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে, জরুরি জনসেবা প্রদান করে কিংবা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করে।
সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে, সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। হামলাকারীরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বা ভবিষ্যতে অবকাঠামো অচল করার কাজে ব্যবহারের আগে কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর ধরে কোনো প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এ ধরনের অনুপ্রবেশের ফলে পরিচালন প্রযুক্তি (অপারেশনাল টেকনোলজি) আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি করপোরেট ও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
সূত্র: রয়টার্স